ঢাকা, রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খাদ্য উৎপাদনকে নতুন সংকটে ফেলেছে’

বাংলাদেশসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জন এখনও নানা সংকটের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। সাম্প্রতিক কভিড-১৯ অতিমারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খাদ্য উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থাকে আরো নতুন সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এরই সাথে ওতোপ্রোতভাবে যুক্ত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব। খাদ্য এবং কৃষির সাথে যুক্ত করপোরেটগুলোর প্রতি সরকারের নতজানু নীতি অনেক ক্ষেত্রে খাদ্য প্রাপ্যতা এবং বিতরণের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করছে।

তাই খাদ্য এবং বিদ্যমান কৃষি খাদ্যব্যবস্থাকে আরো ন্যায়সঙ্গত, টেকসই, জলবায়ু সহিষ্ণু করে তোলার ব্যাপারে আঞ্চলিক ঐকমত্য গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার(২৬ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবন এ দুই দিনব্যাপী ‘এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্য অধিকার ও কৃষি খাদ্যব্যবস্থা সম্মেলন ২০২৩’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’সহ সংশ্লিষ্ট জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নেটওয়ার্কের সম্মিলিত আয়োজনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চোধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, নেপালের কৃষি এবং জীবিকায়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সঞ্জীব কর্ণ ও কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রমেশ সিং বক্তব্য রাখেন।

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলীর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ছয় শতাধিক খাদ্য এবং কৃষি খাদ্যব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং এক্টিভিস্ট, নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ, কৃষক, আদিবাসী, যুব প্রতিনিধি ও ফিলিপাইন, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

>>>  পদ্মা সেতুর এক বছর, কৃষি রাজধানী হয়ে উঠেছে শরীয়তপুর

বক্তব্যে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার শুরু থেকেই কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে নানামুখী উদ্যোগের শুরু হয়েছিল। যার ধারা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনের রোল মডেল।

বাংলাদেশসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই সম্মেলন পথ দেখাবে বলে তিনি আশা করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন এবং খাদ্যের স্বল্পতা সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিতকরণে বড় চ্যালেঞ্জ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চলমান বৈশ্বিক সংকট। খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা এখন এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এতকিছুর পরেও বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের দেশ হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, খাদ্যের পর্যাপ্ততার পাশাপাশি সেই উৎপাদিত খাদ্যে সকল মানুষের অভিগম্যতা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে মানুষের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের সমুদ্র পারের প্রায় সকল দেশ, যা খাদ্য অধিকার নিশ্চিতের ড়্গেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই সম্মেলন মতবিনিময়ের যে ড়্গেত্র তৈরি করেছে, তা কার্যকর হবে যদি সংশিস্নষ্ট রাষ্ট্রগুলোর খাদ্য সংক্রান্ত নীতিতে এখানকার সুপারিশগুলোর প্রতিফলন ঘটে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সাম্প্রতিককালে দেশের কৃষক এবং জনগণের পরিশ্রমের ফলে ও রাষ্ট্রের সুদূরপ্রসারী নীতিমালার কারণে খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। বড় ধরনের সংকট না এর ব্যত্যয় ঘটবে না। সরকার এখন ন্যায্যতা নিশ্চিতে কাজ করছে, ভূমিহীনদের ঘর তৈরি করে দিচ্ছে, স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে। উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য যাতে কৃষকরা পায় সেটা নিশ্চিতে কাজ করছে।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ২য় লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ক্ষুধা নিরসনের কথা বলে, যা খাদ্য অধিকারের দাবিকে ন্যায্যতা দেয়। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে সফলতার গল্প বলে। তারপরও সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষত উৎপাদনের পরে বাজারজাতকরণ, মজুত এবং সংরক্ষণ, সর্বোপরি বিতরণের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য।

>>>  সর্বগ্রাসী হুন্ডির কবলে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

নেপালের যুগ্ম সচিব সঞ্জীব কুমার কর্ণ বলেন, বৈশ্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি ঘটলেও আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নেপাল খাদ্যের অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সকল অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে কৃষি-খাদ্যব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। নেপাল রাষ্ট্র হিসেবে এই ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ ও সকল অংশীজনকে সাথে নিয়ে খাদ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

সর্বশেষ

এই বিভাগের সর্বশেষ

সর্বশেষ :