ঢাকা, সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

বদলগাছীতে মামলায় হেরে গিয়ে পুলিশের নামে অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছীতে মামলায় হেরে গিয়ে থানার একাধিক পুলিশ সদস্যর নামে মিথ্যে অভিযোগ তুলেছেন এক বাদী। জানা যায়, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সদর ইউপির গাবনা গ্রামের মৃত বছির উদ্দীন মন্ডলের ছেলে মোঃ আব্দুর রশিদ (৪৮) ও একই গ্রামের হাসানের স্ত্রী মোছাঃ নাজমা (৩০) উভয়ের মধ্যে জমাজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়েই গ্রামে সালিসি বৈঠকে স্থানীয় মেম্বার মোঃ শরিফুল ইসলাম সহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, বিরোধ জমির সাইড দিয়ে সিমেন্টের খুঁটি দ্বারা বেড়া দেওয়া হবে। বেড়া দেওয়ার কিছু দিনের মধ্যে সেই বেড়া অজ্ঞাত লোকজন সরিয়ে ফেলে। ফলে আবারও ২য় দফায় শুরু হয় বাদী এবং বিবাদীর মধ্যে সংঘর্ষ। উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আবারও গ্রাম সালিসি বৈঠক আহবান করেন মোঃ আব্দুর রশিদ মাষ্টার। তখন আবারও  বেড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কিন্তু ২য় দফায় দেওয়া বেড়াও চুরি হয়ে যায়।
তার পরিপ্রেক্ষিত নাজমা বেগমের স্বামীর বোন মোছাঃ মুর্শিদা বেগম  (৩৬) স্বামীঃ মোঃ বাদশা মন্ডল সাং গাবনা ১৪/০১/২৩ ইং তারিখে মৃত বছির উদ্দীন মন্ডলের ছেলে মোঃ আব্দুর রশিদকে আসামি করে মামলা দেন।

১৪/০১/২০২৩ ইং শনিবার রাত ৮টার পর ১নং স্বাক্ষী রুজিনার বসত বাড়ীর পশ্চিম ভিটার পূর্ব দূয়ারী ঘরের ভিতরে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ তুলেন এবং সেই পরিপ্রক্ষিতে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করতে যান। থানা মামলা না নিয়ে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন।

এতে ও জমির বিরোধ মিটে না। সেজন্য বাদীনী সহ তার লোকজন আঃ রশিদকে মারপিট করে এবং বেড়া ভেঙে ফেলে। তার পরিপ্রেক্ষিতে আঃ রশিদ  বাদি হয়ে বদলগাছী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৭ তারিখঃ ২৪/১২/২০২২ ইং ধারা ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৫০৬/১১৪। সেই  পরিপ্রেক্ষিতে মুর্শিদা বেগম নওগাঁ বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল -১, নওগাঁ। পিটিশন মামলা নং-৩৩/২০২৩ নাঃশিঃ যা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০২৩) ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। 

>>>  নওগাঁর বদলগাছীতে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

যাহা পরবর্তীতে ২৯/০১/২৩ ইং তারিখ হতে  তদন্তভার বর্তায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হাতে। পিবিআই তদন্ত রির্পোটে ও   মেডিকেল চেকআপ শেষে সুস্পষ্ট   ভাবে বলা হয়েছে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায় নি।সুতরাং উক্ত দায়ের করা মামলা টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
উক্ত রির্পোটে আরও উল্লেখ করা মামলার বিবাদী মোঃ আব্দুর রশিদের মোবাইল – এর সিডিআর পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ইং- ১৪/০১/২০৯৩ তারিখে সন্ধ্যা ০৭ টা ৩৯ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে তার অবস্থান অর্থাৎ ল্যাক এবং সেলের অবস্থান ছিল শালবাড়ী মহাদেবপুরে।

পরের দিন ইং-১৫/০১/২০০৩ তারিখে সকাল ১০ টা ০৬ মিনিট ৫১ সেকেন্ডে তার অবস্থান অর্থাৎ ল্যাক এবং সেলের অবস্থান ছিল বর্ষাশাইল  বাজার নওগাঁ সদরে। মোবাইলের সিডিআর লোকেশন অনুযায়ী বিবাদীর অবস্থান নওগাঁয় অবস্থান বিবাদী মোঃ আব্দুর রশিদ বাদিনীর ভাই এবং ভাবীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সহকারী মামলা দায়ের করে।
এতে তার মামলার বিবাদী মোঃ আব্দুর রশিদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিজ্ঞ আদালতে অসত্য তথ্য দিয়ে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। 

উক্ত বিষয়ে মেডিকেল চেকআপকারী ডাঃ নাজমা মেডিকেল অফিসার ২৫০ শয্যা  নওগাঁ জেনারেল  হাসপাতাল, নওগাঁ কোর্ড নং ১১৭০০৩ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মুর্শিদা বেগম যে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের করেছেন তাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কেননা মেডিকেল চেকআপে কোনো প্রকার আলামত পাওয়া যায় নি।

উক্ত বিষয়ে পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ও প্রতিবেদন দাখিলকারী কর্মকর্তা নওগাঁ মোঃ মাহবুবুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাদীর আনিত অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র অংকন, সূচীপত্র প্রস্তুত ও ঘটনাস্থলের ছবি উত্তোলন করা হয়েছে। বাদীর আনিত স্বাক্ষী ও নিরপেক্ষ স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ভিকটিম মোছাঃ মুর্শিদা বেগমের ধর্ষন পরীক্ষার রিপোর্ট প্রাপ্ত হইয়া পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিবাদী আব্দুর রশিদ কর্তৃক রুজুকৃত মামলার কপি পর্যালোচনা করা হয়েছে। মামলাটির সার্বিক বিষয় অনুসন্ধান কালে প্রাপ্তহন। সাক্ষ্য প্রমাণ, মোবাইলের সিডিআর পর্যালোচনায় এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় বিবাদী ১। মোঃ আব্দুর রশিদ পিতা-মৃত বছির উদ্দিন মন্ডল ওরফে বছির মাষ্টার সাং-পাবনা থানা-পত্নীতলা জেলা-নওগাঁ এর বিরুদ্ধে বাদিনীর আনীত ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/০৩) এর ৯ (১) ধারার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় নি। যা মামলার বাদিনীকে মামলা তদন্তের ফলাফল জানানো হয়েছে।

>>>  বদলগাছীতে আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গরু ও ঢেউটিন বিতরণ

সরিজমিনে গাবনা গ্রামে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীর কাছে জানা যায়, মুর্শিদা বেগম যে মামলা দায়ের করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার মোঃ শরিফুল ইসলাম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আসলে এটা দুইবার সালিসি বৈঠক করা হয়। বাদীপক্ষ যখন দেখছে তাদের সার্থ হাসিল হচ্ছে না তখন তারা এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন ও পুলিশ প্রসাশনের দিকে আঙুল তুলছেন । যার কোনো সত্যতা নেই।

স্থানীয় সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তি জানান যে, বদলগাছী থানা পুলিশের, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও
এস আই মেহেদী হাসান, এস আই মিজানুর রহমান মিজান নাকি তাদের স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে মোঃ আঃ রশিদ কে জমি দখল করে দেন এবং নাজমা বেগমকে হয়রানি করার লক্ষে গ্রেফতার করেছেন। এমন অভিযোগটি সঠিক নয়।
থানা পুলিশের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগটি ভিওিহীন।
যেখানে কোর্টের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেখানে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং দুই এস আই কিভাবে তাদের স্বার্থ হাসিল করলেন?

এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ওসি মুহা.আতিয়ার রহমান বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হয় ঘটনার বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত মামলা হয় ও তদন্তের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকুন- দৈনিক স্লোগান

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

সর্বশেষ

এই বিভাগের সর্বশেষ

সর্বশেষ :