আফগানিস্তানের সাথে আগের ৯ দেখায় মাত্র ৩টি টি-টোয়েন্টি জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে সাকিব আল হাসানের দল সেই সংখ্যাকে নিয়ে গেল চারে। এর মাধ্যমে আফগানদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে টাইগাররা।
আজ (১৬ জুলাই) রবিবার দ্বিতীয় এবং শেষ ম্যাচ জিতলেই সেটি নিশ্চিত হয়ে যাবে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
এর আগে শুক্রবার তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ম্যাচে ২ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। শেষ ওভারে করিম জানাতের নাটকীয় হ্যাটট্রিক শেষে জয় প্রায় ছিটকে যেতে বসেছিল টাইগারদের হাত থেকে। শেষ ওভারে জিততে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান। প্রথম বলেই করিমের বলে বাউন্ডারি মেরে অনানুষ্ঠানিক জয় নিয়ে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু এরপর বিলাসী তিন টাইগার ব্যাটারই উইকেট বিলিয়ে সংকটি তৈরি করেন করিম।
মিরাজের পর নাসুম আহমেদ ও তাসকিন আহমেদ উভয়ই গোল্ডেন ডাক মেরে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। সেই সময় ক্রিজে আসেন পেসার শরিফুল ইসলাম। তবে যুব বিশ্বকাপজয়ী এই পেসার আর ভুল করলেন না। অফ সাইডের ফাঁক খুঁজে নিয়ে সবুজ ঘাসের বুক চিরে বলকে পাঠিয়ে দেন সীমানায়। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়। তবে তার আগে ম্যাচটিতে টাইগারদের টিকিয়ে রেখেছিলেন ৪৭ রান করা তাওহীদ হৃদয়। ৩৩ রান করা শামীম পাটোয়ারী তাকে যোগ্য সাথী ছিলেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার একদিন পর (শনিবার) এই প্রসঙ্গে শরিফুল বলেন, ‘মিরাজ ভাই যখন চার মারল তখন আমি প্রায় নিশ্চিত ছিলাম যে আমরা জিতে যাব। আমি, মুস্তাফিজ ভাই এবং নাসুম ভাই রিল্যাক্সে ছিলাম। প্যাডও খুলে ফেলেছিলাম। যখন দেখলাম যে মিরাজ ভাই আউট, ধীরে ধীরে সবাই প্যাড পরতে শুরু করলাম।
মাঠের সেই স্নায়ুচাপের পরিস্থিতি নিয়ে শরিফুল আরও বলেন, ‘তাসকিন ভাই নামার পর আমি নিচে গেলাম। নাসুম ভাই নেমে তিনিও আউট হয়ে গেলেন। আমি যাওয়ার সময় কোচ আমাকে বলল ‘‘তুমি পারবে। শুধু ব্যাট-বলের সাথে কানেক্ট করবে। তাহলে সহজ হয়ে যাবে।’’ যখন আমি মাঠে নেমেছি হৃদয় বলছিল ‘‘এটা কোনো বিষয়ই না, চাপ না। এটা হবে, না লাগলেও তুমি দৌড় দিবা। তুমি পারবা।’’ আমি বলি, বিশ্বাস রাখো, আমি পারব। পরে আল্লাহর রহমতে সেটি হয়ে গেছে।’
প্রথম ম্যাচের জয় নিশ্চিতভাবেই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে টাইগারদের। সেই কারণেই শনিবার ছুটির দিনে ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন ক্রিকেটাররা। এর আগে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারায় সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন দলটি চাচ্ছে অন্তত টি-টোয়েন্টি সিরিজটি নিজেদের করে রাখতে।








