ঢাকা, সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

সন্তানকে কবিরাজ দেখাতে গিয় শিকার নারী

দৈনিক স্লোগান, অপরাধ

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তানকে চিকিৎসার জন্য কবিরাজের সন্ধান দেওয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ সেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত রবিবার রাতে উপজেলার পুরানফৌদ এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার পর সোমবার দিনভর অভিযান চালিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে থাকে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার নন্দিরাই গ্রামের দুদু মিয়া (৩৬), বীরদল ভাড়ারীফৌদ গ্রামের হেলাল আহমদ (৩৮), বড়দেশ সরদারীপাড়া গ্রামের ফরহাদ (৩৫), বীরদল আগফৌদ গ্রামের আব্দুল করিম এবং বীরদল ছোটফৌদ গ্রামের জুবের আহমদ (২৪)।

এজাহার ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর বাড়ি কানাইঘাট উপজেলায়। বিয়ের পর থেকে তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছেন। ২০ দিন পূর্বে অভিযুক্ত দুদু মিয়ার সাথে কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে দুদু মিয়ার সাথে ওই নারীর প্রায়ই ফোনে কথাবার্তা হতো।

ওই নারীর ৯ মাসের সন্তান অসুস্থ হলে দুদু মিয়া তাকে পার্শ্ববর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার ফুটিজুরি গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যেতে বলে। পরবর্তীসময়ে মেয়ের চিকিৎসার নাম করে রবিবার বেলা ৩টার দিকে বিয়ানীবাজারে গিয়ে দুদু মিয়া ওই নারীকে শিশু সন্তানসহ কানাইঘাট এ নিয়ে আসে। কবিরাজের কাছে না নিয়ে কৌশলে তাকে নিয়ে কানাইঘাটের বীরদল বাজার এলাকার মধ্যে ঘুরতে থাকে দুদু মিয়া। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বীরদল বাজারে থাকা লোকজনের সেটি সন্দেহ হয়।

এই সময় দুদু মিয়ার ফোনে তার সহযোগী আব্দুল করিম বীরদল বাজারে চলে আসে ও তারা ওই নারীকে কৌশলে মোটরসাইকেল যোগে বীরদল খালোমুরা বাজারে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাদেরকে আটক করে রাখে। রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা ওই নারীকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জুবের আহমদের রিকশায় তুলে দেন। এই সময়ও রিকশার পিছু নেয় দুদু মিয়া এবং তার সহযোগীরা। রিকশা পুরানফৌদ কবরস্থানের সামনে আসলে হেলাল আহমদ এবং ফরহাদ আহমদ নামে তাদের সহযোগী রিকশার গতিরোধ করে ও ভুক্তভোগীকে পুরানফৌদ গ্রামের হাবিব আলীর নির্জন পুকুরঘাটে নিয়ে যায়।

>>>  পুসাপের আয়োজনে শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পাবলিকিয়ান মিলনমেলা অনুষ্ঠান

সেখানে হেলাল এবং ফরহাদ ওই নারীকে জোরপূর্বকভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এতে নারীর প্রচুর রক্তপাত হলে ভয়ে পেয়ে দুদু মিয়া, আব্দুল করিমসহ সবাই পালিয়ে যায়। 

পরে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে থাকে। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম দস্তগীর আহমেদ। তিনি দৈনিক স্লোগানকে বলেন বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনার খবর পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে ও সোমবার দিনভর উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামিরা জানিয়েছে ধর্ষণে হেলাল আহমদ এবং ফরহাদ আহমদ সরাসরি জড়িত। দুজন ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সবাই ভয় পেয়ে যায়। তবে গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিরা ধর্ষণে সহায়তা এবং ওই নারীকে অপহরণে জড়িত।’ 


সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

সর্বশেষ

এই বিভাগের সর্বশেষ

সর্বশেষ :