হামলায় পণ্ড হয়ে গেছে পটুয়াখালীতে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ। এই সময় বিএনপির কার্যালয় এবং নেতাকর্মীদের বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।
টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
হামলা এবং সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানা যায়।
শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বিএনপি তাদের পূর্বনির্ধারিত বনানী মোড় এলাকাতে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে শুরু করে। তাদের কার্যক্রম শুরু হওয়া মাত্রই কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু ও তার সফরসঙ্গীরা সভাস্থলে পৌঁছনোর আগেই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এরপর দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
বিএনপি দাবি করেছে হামলায় তাদের ৩০ নেতাকর্মী ও আওয়ামী লীগ দাবি করেছে তাদের সাত জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
সভা পণ্ডের পর দুপুর ২টায় আদালত পাড়াস্থ হোটেল হিলটনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে থাকেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু। এই সময় তিনি বলেন, ‘অধিকারবঞ্চিত হয়ে পড়েছে দেশ। এমন হামলা কিংবা অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমাদের আন্দোলন।
এই অবৈধ সরকারের জোর-জুলুমের সময় শেষ। মানুষ রাস্তায় নেমেছে, এই কারণেই আওয়ামী লীগ আরো দিশাহারা হয়ে পড়েছে গদি হারানোর ভয়ে।’
এই সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশারফ হোসেন, হাসান আল মামুন ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
পটুয়াখালী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘কেন্দ্রঘোষিত জনসমাবেশ ছিল, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মূল দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শুরু করি। কিন্তু সন্ত্রাসবাদী ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।
এতে আমাদের ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে তারা। আমাদের দলীয় কর্মীদের ব্যবহৃত প্রায় ১০টি মোটরসাইকেলকে ভাঙচুর করা হয়েছে।’
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আজ জেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ ছিল। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সেখানে আসার পথে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চাললে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদের সাত থেকে আটজন আহত হয়েছে। ঘটনার জন্য বিএনপি দায়ী। আওয়ামী লীগ কিংবা যুবলীগের বিরুদ্ধে আনীত সব ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
সংঘর্ষ এলাকা পরিদর্শন করে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহম্মদ সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে কিছু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হয়েছে, দু-একটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়েছে, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষন হয়েছি। জানামতে সে রকম কোনো ইনজুরির খবর নেই।’






