ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুবলীগের আমিনুলকে গ্রেফতার না করায় পরিবারের ক্ষোভ

রাজধানীর মিরপুরে ফাস্টফুডের দোকানি হাফিজুল ইসলাম (২৭) হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাফিজুলের পরিবার। এদিকে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হাফিজুল ইসলাম মিরপুর-১০ নম্বরে ফলপট্টির কাছে ফুটপাতে ফাস্টফুডের দোকান চালাতেন। থাকতেন ওই এলাকারই একটি মেসে। গ্রামের বাড়ি নরসিংদী। গত সোমবার আসাদুজ্জামান এবং মো. তারেকসহ তিন-চারজন হাফিজুলের দোকানে যান। একপর্যায়ে তাঁরা হাফিজুলকে মারধর করতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাঁকে হাসপাতালে নেন। সেখানে হাফিজুলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

হাফিজুলকে মারধরের পর সোমবার রাতে মিরপুর থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাফিজুল খুন হওয়ার খবর পেয়ে নরসিংদী থেকে ঢাকায় আসেন তাঁর ভাই সজীব মিয়া। মিরপুর থানায় তাঁর সামনেই আসাদুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। সেখানে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করেন সজীব। মামলায় আসাদুজ্জামান ছাড়াও মো. তারেককে আসামি করা হয়েছে। তারেক বর্তমানে পলাতক রয়েছে। মামলায় আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, তিনি হাফিজুলের ওপর হামলাকারীদের পালিয়ে যেতে বলেছিলেন।

মামলার বাদী সজীব মিয়া আজ শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আমিনুল ইসলাম ও আসাদুজ্জামানসহ কয়েকজন গত রোববার বিকেলে তাঁর ভাইয়ের দোকানে যান। হাফিজুলকে তাঁরা পল্লবী ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু হাফিজুল রাজি না হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান। পরদিন সন্ধ্যায় মারধর করে তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়।

সজীব মিয়া বলেন, মামলার পর ভাইয়ের দোকানের আশপাশে খোঁজ নিয়ে ও তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আমিনুল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। এ ছাড়া আসাদুজ্জামান পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ঘটনার পর আমিনুল তাঁদের পালিয়ে যেতে বলেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে আমিনুলের ভূমিকার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ পুলিশ আমিনুলকে গ্রেপ্তার করছে না।

>>>  হত্যার পর লাশের পাশে ফেলে যান ছিনতাই করা ব্যাগ

মামলার বাদীর অভিযোগের বিষয়ে আজ পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. জসীম উদ্দীন মোল্লার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আামিনুল পালাতে বলেছিলেন। পালাতে বলা ব্যক্তি আর আসামি হওয়া এক কথা নয়। তবে তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনিভাবে তাঁর নাম আসবে। মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত চলছে। এখনই ওইভাবে বলা ঠিক নয়। তবে হত্যায় জড়িত মূল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অপর আসামিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মামলা তদন্ত তদারকে যুক্ত আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা দৈনিক স্লোগানকে বলেন, হাফিজুলকে হত্যার পর আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে আমিনুলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ফাস্টফুডের এক দোকানি তাঁকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী হাফিজুলকে যুবলীগের সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য শাসিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় আমিনুল সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে মিরপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আমিনুলকে গ্রেপ্তার না করার যৌক্তিকতার বিষয়ে জানতে আজ রাতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) আসামির কলামে ওই ব্যক্তির (আমিনুল) নাম থাকতে পারত। তবে মামলার বিবরণে নাম থাকায় তিনি আসামি। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়।’  

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ রিমান্ডের শেষ দিন। আগামীকাল শনিবার তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তোলা হবে। রিমান্ডে তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে যুবলীগের সমাবেশে না যাওয়ায় হাফিজুলকে মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

আমিনুল ইসলাম ঢাকা মহানগর ৯৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছর তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তারেকও একই ওয়ার্ডের যুবলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি আমিনুলকে যুবলীগে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে এ–সংক্রান্ত চিঠি এখনো তাঁকে দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।




>>>  শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে খুলনা মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

সর্বশেষ

এই বিভাগের সর্বশেষ

সর্বশেষ :