সম্পাদকীয় কলাম, স্লোগান
রাজনীতি মানে কি আজীবন ক্ষমতায় আসীন থাকা? আবার রাজনীতি মানে কি ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সাথে সাথে গিরগিটির মতো নিজের অবস্থান ও সুবিধাজনক মতো পাল্টে নেওয়া? আমি উপরোক্ত দুটি মতের একটি তে বিশ্বাসী নোই!
আমি বিশ্বাস করি, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ব্যাতীত কারো ক্ষমতা ই চিরস্থায়ী নয়। আর তাই যদি হতো তাহলে গ্রীক সভ্যতা, মেসোপোটেমিয়া সভ্যতা কিংবা সিন্ধু সভ্যতা- বীরদর্পে পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারতো। ভেঙ্গে পড়তো না অটোমান সম্রাজ্য! পালবংশ, সেন বংশের রাজত্বের পর দিল্লি সালতানাত কিংবা মোঘল শাসন পেরিয়ে ভারতবর্ষ ও কয়েক খন্ডে বিভক্ত হয়ে যেতো না। বিভক্ত হতো না পূর্ব-পাকিস্তান ও পশ্চিম-পাকিস্তানের দুই ভূখণ্ড! সর্বোপরি স্বাধীনতার ৫৪ বছরে পরিবর্তন হতো না কয়েক দফা ক্ষমতার রদবদল, থেকে যেতো একজনের ই আয়ত্তে।
এটা প্রমাণিত ধ্রুব সত্য যে শাসকের পর নতুন শাসক আসে, সমাজব্যবস্থাপনার ও পরিবর্তন হয়। তবে তা মেনে নিতে আমাদের কেন এতো অস্থিরতা?
আবার এটাও ঠিক, শাসক বদলে গেলেই শাসন বদলে যায় না; নতুন কোনো শাসক এসে হাল ধরে শাসনকার্যের।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এদেশে মোটামুটি দুটো দলের শাসন কার্যক্রম ই বেশি সময় যাবত পরিচালিত হয়েছে- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। একটা সময় আওয়ামী লীগ কে খুব কোনঠাসা করে রাখার অপচেষ্টা হয়েছে, তাতে কী আওয়ামী লীগ শেষ হয়েছে? হয়নি। আবার বিগত ষোলো বছরের শাসন ব্যবস্থায় অনেক ভাঁওতাবাজ বলাবলি করেছে যে, বিএনপি শেষ! কিন্তু আসলে কি তা হয়েছে? হয়নি।
রাজতন্ত্র কিংবা সমাজতন্ত্র ব্যতিরেকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় প্রতিটি দেশে ই ততোধিক রাজনৈতিক দল চলমান থাকে, তাতে কী একটি দল-ই শাসন খেলা খেলে যায় যুগের পর যুগ? নো মানে একদম ই না!
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা মানে, জনগণের শাসন অর্থাৎ 'জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসনব্যবস্থা ই গনতন্ত্র' - এই ধ্রুব সত্য আপনাকে-আমাকে মানতেই হবে, অন্যথায় আপনি বা আমি বেশি জ্ঞানী!
যেকোনো শাসকের ই শাসনভার গ্রহণের পর বারংবার মনে করা উচিত, আমাকেও একদিন সরে যেতে হবে! ছেড়ে দিতে স্থান, কেননা আসবে নতুন শিশু; আর সেখান থেকেই উঠে আসবে আমার থেকে ভালো কোনো নেতৃত্ব, আর সেই ব্যবস্থা টি পূর্বসূরি'র ই করে যাওয়া উচিৎ! তাহলে ই পরবর্তী রা বলবে 'আমার পূর্বসূরি ছিলেন আমার চেয়ে যোগ্য, আমি তাঁর আদর্শের গোলাম মাত্র!'
আনোয়ার সজীব
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক