রাশিয়া-ইরানের ঘনিষ্ঠতা পশ্চিমা দেশগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরান এখন রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক সহযোগী দেশ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যও রাশিয়া-ইরানের সামরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক উষ্ণ হতে হতে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গমাত্রার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠেছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘রাশিয়া ইরানকে নজিরবিহীন সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। দুই দেশ এখন যৌথভাবে প্রাণঘাতী ড্রোন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে আমাদের হাতে কিছু প্রতিবেদন এসেছে।’

কিরবি জানান, দুই দেশের এমন ড্রোন নির্মাণ ইউক্রেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশসমূহ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জাতিসংঘে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বারবারা উডওয়ার্ড বলেন, ইরান শত শত ড্রোন রাশিয়ায় পাঠিয়েছে । রাশিয়া এসব ড্রোন ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাশিয়া এখন ইরানের কাছ থেকে শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আরও অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এর বিনিময়ে তারা ইরানকে নজিরবিহীন সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চাইছে।’
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবিও একই রকম কথা বলেছেন। তিনি বলেন, অস্ত্র উৎপাদন ও প্রশিক্ষণের মতো ক্ষেত্রগুলোতে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চাইছে।
তিনি আরও জানান, রাশিয়া ইরানকে হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা পদ্ধতিসহ ‘অত্যাধুনিক সামরিক উপকরণ সরবরাহ’ করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে।
কিরবি বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করতে রাশিয়া ইরানি ড্রোন ব্যবহার করছে। এতে লাখো ইউক্রেনীয় বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। তারা শীতে ঘর উষ্ণ রাখতে পারছে না। জরুরি সেবা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

কিরবির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি বলেন, ইরান রাশিয়ার অন্যতম প্রধান সামরিক সমর্থক দেশ হয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ক বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে ‘জঘন্য চুক্তির’ কারণে ইরান রাশিয়ায় শত শত ড্রোন পাঠাচ্ছে। রাশিয়া কয়েক শ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অস্ত্রের জোগান বাড়াতে চাইছে। তাই আগামী মাসগুলোয় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য ইরানের সহযোগিতা বাড়বে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত যুক্তরাজ্য।
ইউক্রেনে হামলা চালাতে রাশিয়া ইরানি কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করছে বলে গত অক্টোবরে অভিযোগ তোলে কিয়েভ। এমন অভিযোগের পর দেশ দুটির মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এসেছে। ইরান শুরুতে রাশিয়াকে ড্রোন পাঠানোর কথা অস্বীকার করে। পরে তারা স্বীকার করে, রাশিয়াকে তারা ‘সীমিত সংখ্যক’ ড্রোন পাঠিয়েছে। তবে তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে এসব ড্রোন মস্কোয় পাঠানো হয়েছিল।
তবে ইরানের এমন দাবি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রতিদিন অন্তত ১০টি করে ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। তাই ইরানের যুদ্ধের আগে রাশিয়ায় সীমিত সংখ্যক ড্রোন পাঠানোর দাবি ধোপে টিকে না।






