ঢাকা, সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ন্যাটো নেতাদের সাথে দেখা করবেন হতাশ জেলেনস্কি

লিথুয়ানিয়ায় চলছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর দুই দিনের সম্মেলন। আর সেখানেই আজ বুধবার (১২ জুলাই) ন্যাটো নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মূলত ন্যাটোর সাথে কবে নাগাদ যুক্ত হতে পারে ইউক্রেন সেই সম্পর্কে স্পষ্ট টাইমলাইন ঘোষণার আহ্বান প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর এই সাক্ষাৎ করতে চলেছেন তিনি।

এর আগে ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা না পেয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্যই জানিয়ে থাকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার ন্যাটো নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন। আর সেটিও এমন এক সময় যখন ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ এই জোটের মধ্যে রয়েছে বলে ন্যাটো ঘোষণা করলেও পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির সদস্য হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

রয়টার্স বলছে, জেলেনস্কি ভিলনিয়াসে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ন্যাটো-ইউক্রেন কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনের জন্য সামরিক এই জোটটির নেতাদের সাথে যোগ দেবেন। মূলত কিয়েভ ও ৩১ সদস্যের ট্রান্সআটলান্টিক সামরিক এই জোটের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্থা হচ্ছে ন্যাটো ও ইউক্রেন কাউন্সিল।

এছাড়া বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথেও আলাদাভাবে দেখা করবেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। মূলত গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে সৃষ্ট যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো দেশগুলোর কাছ থেকে আরও অস্ত্র এবং গোলাবারুদ চাইছেন ইউক্রেনীয় এই প্রেসিডেন্ট।

কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি কিয়েভকে উন্নত অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সামরিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা সহায়তার আশ্বাস দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভবত শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই সেই ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া অন্যান্য দেশও একইসময় তাদের নিজস্ব দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইউক্রেনকে সহায়তার দৌড়ে যুক্ত হবে বলেও জানিয়ে থাকেন
কর্মকর্তারা।

এদিকে সামরিক জোট ন্যাটোর সাথে ইউক্রেন কবে নাগাদ যুক্ত হতে পারে সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো টাইমলাইন বা সময়সীমা বেঁধে না দেওয়ায় মঙ্গলবার ভিলনিয়াসে একটি সমাবেশে জেলেনস্কি হতাশা প্রকাশ করেন। এছাড়া এমন সম্ভাবনাকে এর আগে তিনি ‘অযৌক্তিক’ বলেও উল্লেখ করে থাকেন।

>>>  জেলেনস্কির ১০ দফার মাধ্যমে শান্তি চুক্তি অসম্ভব: রাশিয়া

ভিলনিয়াসে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশে জেলেনস্কি বলেন, ‘ন্যাটো ইউক্রেনকে আরও নিরাপদ করবে, এবং ইউক্রেন ন্যাটোকে আরও শক্তিশালী করবে।’

অবশ্য মঙ্গলবার রাতে ইউক্রেনীয় এই প্রেসিডেন্ট ন্যাটো মিত্রদের প্রতি বেশ নরম ভাষায় কথা বলে থাকেন। টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষার বিষয়টিই আমাদের কাছে শীর্ষ অগ্রাধিকার ও আমাদের অংশীদাররা নতুন যেসব পদক্ষেপ নিতে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যোদ্ধাদের জন্য আরও অস্ত্র পাঠানো হলে তা সমগ্র ইউক্রেনের জন্য আরও সুরক্ষা নিশ্চিত করবে! আমরা ইউক্রেনে নতুন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আনার ব্যবস্থা করবো।’

ন্যাটো বলেছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকা অবস্থায় ইউক্রেন তাদের জোটে যোগ দিতে পারবে না। মঙ্গলবার এই জোটের নেতারা ২০০৮ সালের একটি ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদান করবে।

তবে তারা এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না। নেতারা লিখিত ঘোষণায় বলেছেন, ‘যখন মিত্ররা সম্মত হবে ও শর্ত পূরণ করা হবে। তখনই আমরা ইউক্রেনকে জোটে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানাব।’

বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ন্যাটো সৈন্যদের সাথে কাজ করার জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীর সক্ষমতার অগ্রগতি দেখতে ন্যাটোকে। সেইসাথে ইউক্রেনের গণতান্ত্রিক এবং নিরাপত্তা খাত সংস্কারেরও প্রয়োজন রয়েছে।ন্যাটোর অবস্থান কিয়েভের সদস্যপদ নিয়ে তাদের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তিই তুলে ধরছে।

পূর্ব ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনকে দ্রুত এই জোটের সদস্য করার বিষয়টি সমর্থন করে। এসব দেশের যুক্তি, ইউক্রেনকে ন্যাটোর নিরাপত্তার অধীনে আনাই হচ্ছে রাশিয়াকে আবারও আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখার জন্য সর্বোত্তম উপায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশগুলো এই বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মূলত তারা এমন যে কোনও পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে যা ন্যাটোকে রাশিয়ার সাথে সরাসরি সংঘর্ষে টেনে নিয়ে যেতে পারে।

>>>  যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াতে হামলা সমর্থন করেনা : হোয়াইট হাউস

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের সম্ভাবনাকে রাশিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অবশ্য ন্যাটো জোর দিয়েই বলেছে, এটি প্রতিরক্ষামূলক জোট ও এই জোটের রাশিয়ার ওপর আক্রমণ করার কোনো প্রকার ইচ্ছাই নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

সর্বশেষ

এই বিভাগের সর্বশেষ

সর্বশেষ :