নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেইলি স্লোগান
২ এপ্রিল ২০২৫-এ যুক্তরাজ্যের University of the West of Scotland থেকে Master of Business Administration ডিগ্রি অর্জন শেষে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তুহিন সরদারের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল এক অনন্য স্লোগান— “জয় বাংলা”। এই ধ্বনি শুধু একটি শব্দমালা নয়; এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক, বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতিধ্বনি।
তুহিন সরদার জানতেন যে এই স্লোগানটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে, একটি আদর্শকে কেবলমাত্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে স্তব্ধ করা যায় না। কারণ “জয় বাংলা” কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি জাতির হৃদয়ের গভীরতম অনুরণন।ইতিহাসের পাতায় জয় বাংলার স্বকীয়তা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় “জয় বাংলা” শুধু একটি স্লোগান ছিল না, এটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণার শক্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে এই স্লোগান বারবার উচ্চারিত হয়েছে। এমনকি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণাপত্রেও “জয় বাংলা”কে রাষ্ট্রীয় শ্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।অথচ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই স্লোগানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইতিহাসের পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। এটি শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি জাতির আবেগ ও চেতনার ওপর আঘাত
হৃদয়ের স্পন্দনকে নিষিদ্ধ করা যায় না।
তুহিন সরদারের ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, স্লোগান বা চেতনা কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞার কাছে নতি স্বীকার করে না। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে, যেকোনো অবস্থান থেকে বাংলাদেশিরা যখন “জয় বাংলা” উচ্চারণ করেন, তখন তা তাঁদের শিকড়ের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।সরকারি আদেশ, নিষেধাজ্ঞা কিংবা শাসকগোষ্ঠীর চাপ জনগণের হৃদয় থেকে “জয় বাংলা” মুছে দিতে পারবে না। বরং, ইতিহাস প্রমাণ করে যে নিষেধাজ্ঞা যত বেশি হয়, তত বেশি মানুষের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত হয়।
তুহিন সরদারের মতো হাজারও প্রবাসী বাংলাদেশি আজও তাঁদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে “জয় বাংলা” উচ্চারণ করছেন। কারণ এটি শুধু একটি শ্লোগান নয়, এটি বাংলাদেশের আত্মপরিচয়, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক এবং ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা।কোনো শক্তিই “জয় বাংলা”কে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। এটি চিরকাল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যাবে, যেমনটি হয়েছিল ১৯৭১ সালে, যেমনটি হচ্ছে আজ, এবং যেমনটি হবে আগামীতেও।
প্রকাশক: মনসুর মো. এন হাসান
সম্পাদক: মো. আশরাফুল ইসলাম
প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী-সম্পাদক: আনোয়ার সজীব