চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যেই পরাজয়ের সম্মুখীন হতে পারে রাশিয়া। সুইস সামরিক এবং অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ মার্কাস কুইস একজন জার্মান টিভিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথাই জানিয়েছেন। পরাজয়ের কারণ হিসাবে তিনি বেশ কিছু বিষয়কেও উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সংঘাত বন্ধের কোনো ইঙ্গিত নেই। বড় ধরনের আক্রমণের পরিকল্পনা করে চলেছে দুই পক্ষই। এরমধ্যেই, পশ্চিমা সহায়তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। প্রতিশ্রুত সামরিক সহায়তার আওতায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না।
এক বছরের বেশি সময় ধরেই চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সংঘাত বন্ধের দৃশ্যমান কোনো ইঙ্গিত নেই। সুইস বিশেষজ্ঞ মার্কাস কুইপ বলেছেন, রুশ বাহিনী যে শোচনীয় পরিস্থিতিতে আছে, তাতে অক্টোবর এর মধ্যেই পরাজয়ের সম্মুখীন হতে পারে।
কুইপ বলেন, মস্কো ইতিমধ্যে যুদ্ধে ট্যাংকসহ বিপুল পরিমাণ ভারী সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। যাতে টান পড়তে পারে রিজার্ভে। যুদ্ধে টিকে থাকার ধৈর্য হারাবে রুশ বাহিনী। রুশ আক্রমণ সামরিক দিক থেকে অযৌক্তিক, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মানুষের জীবনসহ অগণিত সম্পদের, তবে মস্কোর অগ্রগতি হচ্ছে সামান্য। দোনেস্ক, লুহানস্ক, ক্রিমিয়াসহ ইউক্রেনের ১৮ শতাংশ রুশ দখলে। তবে ভূমি পুনরুদ্ধারকে অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন।
গত দু’মাসে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় নির্বিচারে হামলা করে চলেছে রাশিয়া। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস, হুমকিতে স্বাস্থ্যখাত। গত বছর ১৮ হাজার বেসামরিক নিহত। ৫০ শতাংশ জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্বল্প সময়ে রাশিয়া জয়ী হতে না পারায় আগেও ইউক্রেন জয়ী হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন বেশ ক’জন বিশেষজ্ঞ। কিন্তু বর্তমানে অচল পরিস্থিতি। আলোচনা-সমঝোতায় রাজি নয় কেউ। বড় হামলার পরিকল্পনা করেই চলেছে দুই পক্ষ।
যুদ্ধের বাক পরিবর্তনে নেই কোন উন্নয়ন। শীতকালে ভয়ানক রুশ হামলা মোকাবেলা করে ইউক্রেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, বসন্তে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করবে কিয়েভ।
পশ্চিমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত নতুন অস্ত্র পাচ্ছে ইউক্রেন। জার্মানির লেপার্ড টু ট্যাংক, ব্রিটিশ চ্যালেঞ্জার্স, মার্কিন আব্রামস এদের মধ্যে অন্যতম। ভবিষ্যৎ যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এসব অস্ত্র। কিয়েভের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন অব্যাহত। তবে কতোদিন চলবে তার নিশ্চয়তা নেই। সেপ্টেম্বরে শেষ হতে পারে মার্কিন সামরিক সহায়তা বাজেট।
রুশ দুর্গ, ট্যাংকের ফাঁদ, স্থলমাইন মোকাবেলায় ইউক্রেনকে গোলা, পদাতিক, সাঁজোয়া যানের সমন্বয় করতে হবে। যুদ্ধের আগে ইউক্রেনের সৈন্য ছিলো প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার। বর্তমানে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। পশ্চিমাদের হিসাবে, গত বছরে এক লাখ ইউক্রেনীয় সৈন্য যুদ্ধে হতাহত হয়েছে। পাল্টা আক্রমণে কতজন পাঠানো হয়েছিলো, তা এখনো জানায়নি কিয়েভ।






