বঙ্গোপসাগরে সম্প্রতি সৃষ্ট অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে তীব্র গরমের পরে শুরু হয়েছে বৃষ্টির প্রবণতা।
আজ বুধবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ৪৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এছাড়া, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির দৈনিক স্লোগানকে বলেন, ‘আরও ২থেকে ৪ দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে বাংলাদেশের আকাশ থেকে সব মেঘ বঙ্গোপসাগরের দিকে চলে গিয়েছিল। সরাসরি সূর্য কিরণ পড়ায় তাপমাত্রাও বেড়েছিল। সেই সময় বাতাসের গতিপথও কিছুটা বদলে যায়, ফলে বৃষ্টির পরিমাণও কমে আসে। ঝড়ের পরে দেশের আকাশে মেঘ আসা বেড়ে গেছে, তাই বৃষ্টিও বেড়ে যায়।’
‘বর্ষার আগের এই সময় সাধারণত বৃষ্টিপাত তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকায় কালবৈশাখীও বাড়ছে। আগামী যে কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এই সময় দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সহনশীল অবস্থায় থাকবে। বৃষ্টির প্রবণতা কমে এলে তাপমাত্রা আবারও বাড়বে। কারণ এপ্রিল-মে আমাদের উষ্ণতম মাস,’ যোগ করেন তিনি।
এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা জানানো হয়েছে, রাজশাহী, নওগাঁ, মৌলভীবাজার, যশোর এবং কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা মেঘ ঢাকার আকাশে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রত্যাশিত সময়ের আগেই মেঘ চলে এসেছে।’
তিনি জানান, মার্চ থেকে মে—এই ৩ মাস কালবৈশাখীর মৌসুম। স্বাভাবিক নিয়মে কালবৈশাখীর সময় বাতাস থাকতে পারে। কালবৈশাখী মেঘ উত্তর-পশ্চিমাংশে সৃষ্টি হয়ে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে সরে যায়। সেই সময় বাতাস এবং বজ্রপাতেরও সম্ভাবনা থাকে।
সারা দিনের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আজ রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও শিলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।








