পরিসংখ্যান করে দেখা যায় টানা ছয়মাস কমার পর আবার বাড়ল মূল্যস্ফীতির হার; আর এই হার শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বড়েছে।
অর্থাৎ গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বাজারে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, গত মাসে সেই পণ্য বা সেবা নিতে ব্যয় করতে হয়েছে ১০৮ দশমিক ৭৮ টাকা।
ফেব্রুয়ারি মাসের এই মূল্যস্ফীতি তার আগের মাস জানুয়ারির তুলনায় ০ দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
গত এক দশকের রেকর্ড ভেঙে গত বছরের আগস্ট মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি পৌঁছায় ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশে । এরপর টানা পাঁচ মাস তা কমে জানুয়ারি মাসে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে নেমে যায়।
ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য উপখাতের মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা জানুয়ারি মাসে ছিলো ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ ।
আর খাদ্যবহির্ভূত উপখাতের মূল্যস্ফীতি জানুয়ারির ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ থেকে কমে ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার পর ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসে যে পরিমাণ মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এটা সামান্য। এটা অনেকটাই স্থিতিশীল।
“বর্তমানে পুরু বিশ্বেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সেই দিক থেকে আমাদের মূল্যস্ফীতির হার অনেকটাই স্বাভাবিক।”
তার ভাষায়, কোনো পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেলে বাজারে সেই পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তেই পারে। এতে ‘দুশ্চিন্তার কিছু নেই’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগামী রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কিছু পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে সরকার প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে দেশে আনা হয়েছে। সুতরাং রমজান মাসেও মূল্যস্ফীতি সহনীয় থাকবে।”
মূল্যস্ফীতি বেশি গ্রামে
পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসে শহরের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি হয়েছে গ্রাম অঞ্চলে।
গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। খাদ্য উপখাতের মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং খাদ্য বহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
অন্যদিকে শহর অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য উপখাতের মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত উপখাতে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।







